পঞ্চ স্কন্দের শিক্ষণীয় গল্প— আয়নার ঘরে ভিক্ষু
![]() |
| ফাইল ছবি |
পঞ্চ স্কন্দের শিক্ষণীয় গল্প— আয়নার ঘরে ভিক্ষু
অনেক দিন আগে এক বিহারে এক তরুণ ভিক্ষু বাস করতেন। তিনি প্রতিদিন ধ্যান করতেন, শাস্ত্র অধ্যয়ন করতেন, কিন্তু মনে মনে একটি প্রশ্ন তাঁকে কষ্ট দিত—
“আমি কে?”
তিনি ভাবতেন—
এই শরীরটাই কি আমি?
নাকি মনটাই আমি?
নাকি অনুভূতিই আমি?
একদিন তিনি তাঁর আচার্য্যের কাছে গেলেন। আচার্য্য ছিলেন জ্ঞানী ও শান্ত স্বভাবের। তিনি তরুণ ভিক্ষুকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। কক্ষটি ছিল আয়নায় ভরা।
আচার্য্য বললেন,
“তুমি যা দেখছ, তা-ই কি তুমি?”
ভিক্ষু দেখলেন—শরীরের প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে।
তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এটাই তো আমি।”
আচার্য্য হেসে বললেন,
“যদি আয়না ভেঙে যায়, তবে কি তুমি ভেঙে যাবে?”
ভিক্ষু চুপ করে রইলেন।
আচার্য্য আবার বললেন,
“যখন কেউ তোমাকে গালি দেয়, তুমি দুঃখ পাও—এটি বেদনা।
যখন তুমি কাউকে চিনতে পারো—এটি সঞ্ঞা।
যখন রাগ জন্মায়—এটি সংস্কার।
যখন তুমি এসব জানো—এটি বিজ্ঞান।
আর যে দেহটি আয়নায় দেখছ—এটি রূপ।”
“এই পাঁচটির সমষ্টিকেই তুমি ‘আমি’ ভাবছ। কিন্তু এগুলো সবই পরিবর্তনশীল।
যা পরিবর্তনশীল, তা কি চিরস্থায়ী ‘আমি’ হতে পারে?”
তরুণ ভিক্ষুর চোখে জল এলো।
তিনি বুঝতে পারলেন—
তিনি কোনো স্থায়ী সত্তা নন, বরং পঞ্চ স্কন্দের অস্থায়ী সমষ্টি।
সেদিন থেকে তিনি অহংকার ত্যাগ করলেন,
অন্যের দুঃখ বুঝতে শিখলেন,
এবং শান্তির পথে অগ্রসর হলেন।
আরো পড়ুন- বৌদ্ধ ধর্মে পঞ্চ স্কন্দ বলতে মানুষের ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্বের পাঁচটি উপাদান
গল্পের শিক্ষা
-
আমি” বলে যা ভাবি, তা আসলে পঞ্চ স্কন্দের মিলন।
-
সবকিছু অনিত্য—এ কথা বুঝলে অহংকার কমে।
-
অনাত্তা উপলব্ধি করলে দুঃখ কমে এবং করুণা বৃদ্ধি পায়।


