| পঞ্চস্কন্দ ফাইল ছবি |
পঞ্চস্কন্দ
বৌদ্ধ ধর্মে পঞ্চ স্কন্দ বলতে মানুষের ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্বের পাঁচটি উপাদানকে বোঝায়। আমরা যাকে “আমি” বা “আত্মা” মনে করি, তা আসলে এই পাঁচ স্কন্দের সমষ্টি—এর বাইরে আলাদা কোনো স্থায়ী আত্মা নেই-অনাত্তা।
আরো পড়ুন — মহাকারুণা হলো একটি জীবনদর্শন, একটি মানবিক প্রতিশ্রুতি
রূপ + বেদনা + সঞ্জ্ঞা + সংস্কার + বিজ্ঞান = “ব্যক্তি” --- যাকে আমরা আমি ভাবি। ভগবান বুদ্ধ মতে, এই পাঁচটি স্কন্দই অনিত্য (অস্থায়ী), দুঃখময় এবং অনাত্মা। এগুলিকে আসক্তি দিয়ে ধরেই দুঃখের উৎপত্তি হয়।
সেই পাচটি দুঃখময় স্কন্দঃ
রূপ (Rūpa) – দেহ বা বস্তুগত অংশ
শারীরিক দেহ
-
চার মহাভূত: পৃথিবী (কঠিন), জল (তরল), অগ্নি (তাপ), বায়ু (গতি)
-
চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, দেহ—ইন্দ্রিয় অঙ্গ
যা কিছু বস্তুগত ও দৃশ্যমান, তা রূপ স্কন্দের অন্তর্ভুক্ত।
বেদনা (Vedanā) – অনুভূতি
সুখকর অনুভূতি
-
দুঃখকর অনুভূতি
-
উদাসীন (নিরপেক্ষ) অনুভূতি
ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কোনো কিছু স্পর্শ করলে যে অনুভূতি জন্মায়, সেটাই বেদনা।
সংজ্ঞা (Saññā) – ধারণা বা চিহ্নিতকরণ
ইচ্ছা, সংকল্প
-
ভালো-মন্দ কর্মপ্রবণতা
-
মানসিক অভ্যাস ও প্রবৃত্তি
কর্ম (কর্মফল) মূলত এই সংস্কার স্কন্দের সাথে জড়িত।
সংস্কার (Saṅkhāra) – মানসিক গঠন / প্রবৃত্তি
ইচ্ছা, অভ্যাস, মনোভাব
-
কর্ম (কাম্ম) সৃষ্টি করে
-
ভালো ও মন্দ মানসিক প্রবণতা
এটি ভবিষ্যৎ জীবনের কারণ তৈরি করে।
বিজ্ঞান (Viññāṇa) – চেতনা
দেখা, শোনা, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ ও মানসিক চেতনা
-
ছয় ধরনের চেতনা (চক্ষু-বিজ্ঞান, কর্ণ-বিজ্ঞান ইত্যাদি)
ইন্দ্রিয় ও বস্তুর সংস্পর্শে যে সচেতনতা জন্মায়, সেটাই বিজ্ঞান।

0 comments:
Post a Comment